Header Ads

এবার শবর আরও দ্রুত



গত বছর ঈগলের চোখের অসামান্য সাফল্যের পর পরিচালক অরিন্দম শীল জানিয়েছিলেন তার পরের কাজ শবর সিরিজের জন্য একটি ভাল গল্প নিয়ে এগোনোসেই মত তিনি শীর্ষেন্দু বাবুর লেখা প্রজাপতির মৃত্যু ও পুনর্জন্ম এবং ঈগলের চোখ এর সংমিশ্রণে এক  সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং তার সাহসিকতা কে সবাই যে বেশ সাধুবাদ জানিয়েছে সেটা হলে হলে শবর এর তৃতীয়  সিরিজ দেখার ভিড় দেখে বেশ ভালই বোঝা যাচ্ছে। দেশ  জুড়ে চলা পদ্মাবতী বিতর্ক কে একপাসে সরিয়ে রেখে এবছর শুরু তেই এই ছবি যে বাংলা ছবির পালে যথেষ্ট পরিমান হাওয়া যোগাল তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

যথারীতি আগের দুবারের মত এবার ও চিত্রনাট্য  সংলাপ এর হেঁশেল সামলেছেন পদ্মনাভ  দাশগুপ্ত ও পরিচালক অরিন্দম শীল যৌথ ভাবে। এই মুহূর্তে টলি পাড়ার প্রায় সকল পরিচালকদের কাছে একমাত্র সম্বল পদ্মনাভ  দাশগুপ্ত এই ছবি তে আবার ও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বারংবার সকল ছবি তে এক রকম ভাবে নিজের সেরা টা দেওয়া টা প্রায় অভ্যাস করেছেন তিনি। সাথে পরিচালক এর যোগ্য সঙ্গত পেয়েছেন বলে আরও হাত খুলে খেলতে পেরেছেন। আর পরিচালক অরিন্দম শীল তার পর পর সব কটা কাজ দিয়ে দর্শক দের নিজের দিকে টেনে রাখছেন  নিজস্ব কাজের গুণে যা অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা পাওয়ার দাবী রাখে। সব কাজ কে নিজের প্রথম কাজ ভাবা আর সেই মত নিজের সব টুকু দিয়ে কাজ টা করা এটা সিনেমার প্রতি ভালোবাসা না থাকলে হয় না।

আর অভিনয় এর দিক থেকেও তিনি যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছেন শোকোলেড় থেকে।  শবর মানেই দৌড় আর এবার শ্বাশত কে আরও ফিট আরও সুন্দর ভাবে পর্দায় চোখে পড়েছে। সাথে শুভ্রজিত ও সুন্দর সঠিক সময়ে কমিক রিলিফ দিয়ে এবং গৌরব চক্রবর্তী নিজের মত অভিনয়, সিনেমা টা এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে এসবের ভূমিকা প্রধানএছাড়াও মীর , অন্জনা বসু সকলেই যথাযথ। বহুদিন বাদে আবার ক্যামেরা র সামনে এলেন ললিতা চ্যাটার্জী স্ব মহিমা তে।  তার এই বয়সেও অভিনয় এর খিদে দেখার মত। এছাড়া ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত যথেষ্ট সাবলীল। তার অভিনয় এর সাথে  ঈগলের চোখের অনির্বাণ এর কিছুটা মিল পাওয়া গেলেও নিজের মত করে তিনি নিজের অভিনয় করে মন জয় করেছেন। এছাড়া প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল, দর্শনা বণিক , অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বিশেষ চরিত্রে অনামিকা চক্রবর্তী সিনেমা এগিয়ে নিয়ে যেতে যথাযোগ্য সাহায্য করেছে।

এছাড়া আগের মত এবার ও সংগীত সামলেছেন বিক্রম ঘোষ। তিনি যে বর্তমানে যে কোন পরিচালকদের কাছেই এক বিশেষ সম্পদ সেটা আবার ও বুঝিয়েছেন। গল্পের গতি ও তার সাথে যোগ্য সংগীত এর সহযোগ একবারেই দর্শকদের আশাহত করে নি।

এবং  যে বিষয় টী নিয়ে না বললেই নয় তা হল ক্যামেরা। বর্তমানে যে কোন পরিচালক এই দায়ভার টি সৌমিক হালদার এর উপর দিয়ে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন। এবং যার কোন অন্যথা এই সিনেমা তেও হয় নি। ক্যামেরা দিয়ে কথা বলানোর কাজ তা তিনি যে ভালই পারেন আবার অ বোঝালেন। একটা সুন্দর সিনেমা বানাতে যেমন চিত্রনাট্য , অভিনয় এর দরকার হয় তেমন ই সেই সব কাজ সুন্দর ভাবে দর্শক দের কাছে পৌছে দেবার জন্য ক্যামেরা দরকার পোড়ে এবং সেই পরিবেশক এর কাজ তা তিনি যে ভালই পারেন এখানে আবার ও বুঝিয়ে দিলেন তিনি।

সৌময় ঘোষাল